সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্পেনের দাপটে বিদায় ফ্রান্স

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

ফাইনালে ওঠার মঞ্চে এসে এতদিনের চেনা পথটাই যেন ভুলে গেল ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলে ছিলেন নিষ্প্রভ। অন্যদিকে স্পেন খেলেছে পরিকল্পিত, সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল। ফলে বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালটি শেষ পর্যন্ত একপেশে লড়াইয়ে পরিণত হয়। দিদিয়ে দেশোঁর দলকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা।

ডালাসে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষের এক অমার্জনীয় ভুল থেকে পাওয়া পেনাল্টিতে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। পরে দুর্দান্ত এক গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডিফেন্ডার পেদ্রো পররো।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে টানা তিনটি সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারাল স্পেন। এর আগে ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও ২০২৫ সালের উয়েফা নেশন্স লিগের সেমিফাইনালেও জয় পেয়েছিল তারা।

২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল। আগামী রোববার নিউ জার্সিতে তারা শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনার।

ম্যাচের ১৬তম মিনিটে প্রতিপক্ষের একটি আক্রমণ ঠেকিয়ে দ্রুত বল সামনে বাড়ান দেম্বেলে। সেই বল ধরে গতির ঝড় তোলেন এমবাপে। তার ও গোলরক্ষকের মাঝখানে তখন একমাত্র বাধা ছিলেন পেদ্রো পররো। তবে পেছন থেকে পাউ কুবার্সি ও এমরিক লাপোখ্ত দ্রুত ফিরে এসে তিনজন মিলে বিপদমুক্ত করেন স্পেনকে।

ওই একটি মুহূর্তে ফ্রান্সের ভয়ংকর গতির আভাস মিললেও সেটি আর পুরো ম্যাচে দেখা যায়নি। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য কিংবা দলীয় সমন্বয়—কোনোটিই এদিন কার্যকর ছিল না। প্রথম ছয় ম্যাচে যে দলগত পারফরম্যান্সে অজেয় ছিল ফ্রান্স, সেমিফাইনালে তার কোনো ছাপই দেখা যায়নি। সময় যত গড়িয়েছে, ততই বিবর্ণ হয়ে উঠেছে তাদের খেলা।

শেষ কয়েক মিনিটের আগে পর্যন্ত ফরাসিদের উল্লেখযোগ্য কোনো শটই লক্ষ্যে ছিল না। শেষ দিকে কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলো ম্যাচে উত্তেজনা ফেরানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

বল দখলে দুই দল প্রায় সমান ছিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী আক্রমণেও দুই দল কাছাকাছি থাকলেও পুরো ম্যাচে ছন্দের খোঁজেই ছিল ফ্রান্স। দুই দলেরই ১০টি করে শট থাকলেও ফ্রান্সের তিনটি এবং স্পেনের দুটি শট লক্ষ্যে ছিল।

এমবাপের ব্যর্থ পাল্টা আক্রমণের চার মিনিট পরই ডি-বক্সে অদ্ভুত এক ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেন লুকা দিনিয়ে। ডান দিক থেকে উঁচু হয়ে আসা বল নিয়ন্ত্রণে নিতে যাওয়া লামিন ইয়ামালের পায়ে ভলি করে বসেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

নিখুঁত স্পট কিকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন ওইয়ারসাবাল। চলতি আসরে এটি ছিল তার পঞ্চম গোল। জাতীয় দলের হয়ে ৬০ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৩০।

শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে মাঠে নামা ফ্রান্স এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো পিছিয়ে পড়ে। সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই ৩০তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন উইলিয়াম সালিবা। তার বদলি হিসেবে নামেন মাক্সস লাকোয়া।

৩৮তম মিনিটে মাইক মিয়াঁর ভুল পাস থেকে দারুণ এক আক্রমণ গড়ে তোলে স্পেন। দানি ওলমো, লামিন ইয়ামাল ও ফাবিয়ান রুইসের সমন্বিত আক্রমণ থেকে রুইস দারুণ সুযোগ পেলেও দাইয়ু উপামেকানোর চাপে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।

চার মিনিট পর দ্রুত পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে ফ্রান্স। তবে এমবাপে বল পাওয়ার আগেই ডি-বক্সের অনেকটা বাইরে এসে বিপদমুক্ত করেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন।

দ্বিতীয়ার্ধেও ঘুরে দাঁড়ানোর মতো ফুটবল খেলতে পারেননি এমবাপে, দেম্বেলে কিংবা মাইকেল ওলিসে। মাঝমাঠে রদ্রি, ফাবিয়ান রুইস ও দানি ওলমো প্রতিপক্ষকে কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেননি।

৫৮তম মিনিটে ডি-বক্সের মুখে ওলমোর সঙ্গে বল আদান-প্রদানের পর ভেতরে ঢুকে পড়েন পেদ্রো পররো। প্রতিপক্ষের বাধায় ওলমো ঠিকমতো শট নিতে না পারলেও বল ফিরে আসে পররোর কাছেই। সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিখুঁত শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ব্যবধান ২-০ করেন এই রাইট-ব্যাক।

এর কিছুক্ষণ পর ইয়ামাল বল জালে পাঠালেও তিনি অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়। দ্বিতীয় বিরতির আগে এমবাপের জোরালো কোনাকুনি শট পা বাড়িয়ে প্রতিহত করেন কুকুরেইয়া।

নির্ধারিত সময়ের আট মিনিট আগে ফ্রান্সের সামনে সুবর্ণ সুযোগ আসে। একটি আক্রমণ ঠেকাতে আবারও ডি-বক্সের বাইরে চলে আসেন উনাই সিমন। এবার তিনি বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন। ফাঁকা পোস্টের সামনে বল পেয়েও দেজিরে দুয়ে শট নিতে দেরি করে ফেলেন এবং শেষ পর্যন্ত বলের দখল হারান।

শেষ দিকে এমবাপে ফ্রি-কিক থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। হতাশার বশেই এক পর্যায়ে অহেতুক ফাউলও করেন তিনি। অন্যদিকে দেম্বেলের ভালো অবস্থান থেকে নেওয়া শটও দুর্দান্তভাবে রুখে দেন উনাই সিমন।

প্রথম কয়েক ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর প্রশ্ন উঠেছিল, এই ফ্রান্সকে থামাবে কে? সেমিফাইনালে তার জবাব দিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন। গোছানো দলীয় ফুটবল খেলেই তারা নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট।

একই সঙ্গে অব্যাহত থাকল আরেকটি পরিসংখ্যানও। র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা দলের হাতে এবারও উঠছে না বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: